
এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দেশের অন্তত ২২ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আর চৈত্রের কাঠফাটা রোদে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে ভ্যাপসা আবহাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে নতুন করে আশঙ্কার খবর দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী,চলতি এপ্রিল মাসজুড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি তাপপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশে দুই থেকে চারটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। শুধু তাপপ্রবাহই নয়, একইসঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,এ মাসে বঙ্গোপসাগর এলাকায় এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতাও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে এপ্রিল মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,তীব্র গরম ও ঝড় দুটির জন্যই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু,বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসে দেশের আবহাওয়া থাকতে পারে বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং। তাই প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতা,যাতে প্রাকৃতিক এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply